ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপকূলে লবণাক্ততার দুঃসহ বাড়বাড়ন্তে কৃষি বিপর্যয়, হুমকির মুখে লাখো জীবিকা

মোঃ শাহাদাৎ হোসেন

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৫, ০৩:০১ দুপুর

ছবি: মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন

উপকূলে লবণাক্ততার দুঃসহ বাড়বাড়ন্তে কৃষি বিপর্যয়, হুমকির মুখে লাখো জীবিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বরগুনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাটির উর্বরতা কমে গেছে, যা কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ধান, পাট, শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ বহু ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় হাজারো কৃষক জীবিকা হারানোর মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, “আগে যেখানে ১০ বিঘা জমিতে ধান হতো, এখন সেখানে লবণাক্ততার কারণে কিছুই হয় না।” কৃষি অফিস বলছে, এক দশকে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৬ শতাংশ জমি আংশিক বা পুরোপুরি অনাবাদি হয়ে গেছে লবণাক্ততার কারণে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লবণাক্ততা আরও ভেতরে ঢুকে পড়ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, ও খাল ভরাটও এই সমস্যাকে জটিল করে তুলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রায়হান বলেন, “লবণাক্ততার এই সংকট শুধু কৃষি নয়, স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিরাপদ পানির সংকটও মারাত্মক আকার ধারণ করছে।”

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় টেকসই কৃষির জন্য কিছু অভিযোজন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে লবণ-সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান। তবে অনেকেই মনে করেন, এই উদ্যোগগুলো এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই পরিকল্পিত অভিযোজন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী ২০ বছরে উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে।

Link copied!