নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃকাউসার ভূঁইয়া , রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্ক এলাকায় খেলনা বন্দুক হাতে ঘোরাঘুরি ও টিকটক ভিডিও তৈরির একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিডিওতে ব্যবহৃত দুটি খেলনা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—বন্দর বাজার এলাকার লিমন তোহা (২২) ও ইয়াসিন মোল্লা (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন দীর্ঘদিন ধরে টিকটকে ভিডিও তৈরি করেন এবং ইয়াসিনও কয়েক বছর ধরে টিকটক কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক ও টুপি পরা দুই তরুণ হাতে বন্দুকসদৃশ বস্তু নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছেন। ভিডিওর কিছু অংশে পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুদের দিকে বন্দুক তাক করার দৃশ্যও রয়েছে।
এ দৃশ্যগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে, যার সূত্র ধরে পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত ব্যবস্থা
পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং খেলনা বন্দুক। আটক তরুণরাও পুলিশকে জানিয়েছেন যে, কেবল টিকটক কনটেন্ট তৈরির জন্যই এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি খেলনা এবং সেগুলো ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। দুই তরুণকে আটক করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির নামে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এমন কোনো কার্যকলাপ আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোশ্যাল মিডিয়ায় আকর্ষণীয় কনটেন্ট বানানোর নেশায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তিকে ঝুঁকিতে ফেলা বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে তরুণ সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন :