ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক হাতে টিকটক ভিডিও ধারণ, দুই তরুণ আটক

নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক হাতে টিকটক ভিডিও ধারণ, দুই তরুণ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫২ রাত

​নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃকাউসার ভূঁইয়া  , রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)


​নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্ক এলাকায় খেলনা বন্দুক হাতে ঘোরাঘুরি ও টিকটক ভিডিও তৈরির একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
​শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিডিওতে ব্যবহৃত দুটি খেলনা বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
​আটককৃতরা হলেন—বন্দর বাজার এলাকার লিমন তোহা (২২) ও ইয়াসিন মোল্লা (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন দীর্ঘদিন ধরে টিকটকে ভিডিও তৈরি করেন এবং ইয়াসিনও কয়েক বছর ধরে টিকটক কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
​যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
​সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক ও টুপি পরা দুই তরুণ হাতে বন্দুকসদৃশ বস্তু নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছেন। ভিডিওর কিছু অংশে পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুদের দিকে বন্দুক তাক করার দৃশ্যও রয়েছে।
​এ দৃশ্যগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে, যার সূত্র ধরে পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়।
​পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত ব্যবস্থা
​পুলিশের প্রাথমিক যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং খেলনা বন্দুক। আটক তরুণরাও পুলিশকে জানিয়েছেন যে, কেবল টিকটক কনটেন্ট তৈরির জন্যই এগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।
​এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি খেলনা এবং সেগুলো ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। দুই তরুণকে আটক করে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"
​পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির নামে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এমন কোনো কার্যকলাপ আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
​বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোশ্যাল মিডিয়ায় আকর্ষণীয় কনটেন্ট বানানোর নেশায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তিকে ঝুঁকিতে ফেলা বা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে তরুণ সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Link copied!