২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বড় বিদেশ সফরে গত ২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই এসেছে বড় সুখবর — চীনের ১২টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৯.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে বলে আলোচনা চলছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো ও শিল্পে বড় পরিবর্তন আসবে। প্রস্তাবিত খাতগুলো:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (PPP) — ৪.৫ বিলিয়ন ডলার
ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং, পায়রা — ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ — ৮৯০ মিলিয়ন ডলার
মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল — ৬৫০ মিলিয়ন ডলার
শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন — ২৭০ মিলিয়ন ডলার
গ্যাস খাত উন্নয়ন — ২৫০ মিলিয়ন ডলার
স্মার্ট মিটার উৎপাদন — ২৫০ মিলিয়ন ডলার
লজিস্টিকস ও কোল্ড চেইন — ১৮০ মিলিয়ন ডলার
টেক্সটাইল, ব্যাটারি ও সৌর — ১৯০ মিলিয়ন ডলার
রেল কোচ উৎপাদন — ১৯০ মিলিয়ন ডলার
ঔষধি উদ্ভিদ শিল্প — ১৯০ মিলিয়ন ডলার
এই ধরনের উদ্যোগের সময় কুরআনের কয়েকটি দিকনির্দেশনা আমাদের মনে রাখা দরকার:
সূরা আর-রা'দ ১৩:১১
"নিশ্চয় আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের অবস্থা পরিবর্তন করে।"
সূরা আল-কাসাস ২৮:৭৭
"আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন, তা দিয়ে আখেরাতের ঘর অনুসন্ধান করো, আর দুনিয়ায় তোমার অংশ ভুলে যেও না। তুমি সদাচরণ করো, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি সদাচরণ করেছেন।"
সূরা হুদ ১১:৬১
"তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবী থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদের বসতি স্থাপন করিয়েছেন, অতএব তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।"
সূরা আন-নিসা ৪:১৩৫
"হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও..."
অর্থনৈতিক প্রভাব যদি সঠিক তদারকিতে বাস্তবায়ন হয়, তবে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অবকাঠামো — তিন দিকেই বাংলাদেশ এক ধাপ এগোবে। এখন প্রয়োজন দ্রুত চুক্তি, স্বচ্ছতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :